চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (এমইএনএ) অঞ্চলে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) চুক্তির আকার দাঁড়িয়েছে ১১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪৯ শতাংশ বেশি। খবর আরব নিউজ।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি) ১৯৮০ সাল থেকে এ অঞ্চলের এমঅ্যান্ডএ চুক্তির তথ্য নথিভুক্ত করে আসছে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বছরের প্রথমার্ধে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক চুক্তি সই হয়েছে। এলএসইজি বরছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে চুক্তির এ আকার।
এ সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় চুক্তির সংখ্যা বার্ষিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে অঞ্চলটিতে এমঅ্যান্ডএ চুক্তি ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছিল ৯ হাজার ২৩০ কোটি ডলার। চলতি বছর প্রবৃদ্ধির সে ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি এমইএনএ অঞ্চলের একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের প্রবণতাকে ‘কাঠামোগত পরিবর্তনজনিত কারণে ঊর্ধ্বমুখী’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। যার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তন। এলএসইজি বলেছে, এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠান ঘিরে চুক্তির পরিমাণ ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে কেমিক্যাল কোম্পানি সাবিক অধিগ্রহণ করে সৌদি আরামকো। এর বাইরে আর কোনো সময় এত বড় আকারের চুক্তি দেখা যায়নি।
বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, অন্য দেশগুলো থেকে এমইএনএ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা একীভূতের চুক্তিমূল্য ৬ হাজার ৪৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা যেকোনো প্রথমার্ধ হিসাবে ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ ধরনের আউটবাউন্ড চুক্তির সংখ্যা জুনে শেষ হওয়া প্রথমার্ধে ৮ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি বছরের সবচেয়ে বড় চুক্তি হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে বোরোজ পিএলসি অধিগ্রহণ। কোম্পানিটি অধিগ্রহণে ৩ হাজার ৮৫ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে বোরিয়ালিস এজি, যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এমঅ্যান্ডএ চুক্তির তালিকায় শীর্ষে থাকা বেশির ভাগ কোম্পানি ইউএইর। এগুলোর চুক্তিমূল্য ৩ হাজার ৯৮০ কোটি। এরপর রয়েছে সৌদি আরব, যার পরিমাণ ৩৫০ কোটি ডলার।
বছরের শুরুতে বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থা ইওয়াই জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে দেশ দুটি ৩১৮টি এমঅ্যান্ডএ চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় চুক্তির জন্য শীর্ষে থাকা বেশির ভাগ কোম্পানি ছিল কাঁচামাল ও প্রক্রিয়াকরণ খাতের, যার পরিমাণ ৩ হাজার ২১০ কোটি ডলার বা মোট চুক্তির ৬৭ শতাংশ। যার মূল অংশজুড়ে রয়েছে বোরোজ-বোরিয়ালিস চুক্তি।
আর্থিক খাতে হয়েছে ৩৩০ কোটি ডলারের চুক্তি। ভোক্তা পণ্য ও সেবা খাতে ২৯০ কোটি ডলার, হাইটেক খাতে ২৬০ কোটি ডলার ও শিল্প খাতে ২৩০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের পরিমাণ ছিল ২২০ কোটি ডলার। ঘোষিত এমঅ্যান্ডএ চুক্তিতে পরামর্শক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল লন্ডনভিত্তিক রথচাইল্ড। ৭ হাজার ৬১০ কোটি ডলারের চুক্তিতে তারা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে।
এদিকে বছরের প্রথম ছয় মাসে এমইএনএ অঞ্চলে ইকুইটি ও ইকুইটি-সম্পর্কিত তহবিল উত্তোলন হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ কম। এর ৫৯ শতাংশ এসেছে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও থেকে এবং ৪১ শতাংশ এসেছে ফলো-অন ইস্যু থেকে। মোট ২৫টি আইপিও বাজারে এসেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় দুটি বেশি এবং ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে প্রথমার্ধে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় বন্ড ইস্যুর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি এবং ১৯৮০ সালের পর থেকে প্রথমার্ধ হিসেবে সর্বোচ্চ।